রবিবার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ - ১২:১৪
সন্তান লালন-পালনে ভালোবাসা ও কঠোরতার ভারসাম্য অপরিহার্য

সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কঠোরতা প্রদর্শন করলে শিশু মানসিকভাবে জটিল ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, আর কেবল ভালোবাসা দিলে সে হয় অতিরিক্ত আদুরে ও বেয়াড়া। তাই সঠিক পথ হলো— ভালোবাসা ও দৃঢ়তার সুষম সমন্বয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হযরত লুকমান (আ.) যেমন তাঁর নসিহত শুরু করেছিলেন স্নেহমাখা সম্বোধনে—“ইয়া বুন্নাই” (হে আমার স্নেহের সন্তান)—তেমনি লালন-পালনের ক্ষেত্রেও ভালোবাসা হওয়া উচিত শাসনের ভূমিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত।

শিশুর প্রতি যদি শুধু কঠোরতা দেখানো হয়, তাহলে তার মধ্যে স্বভাবতই ক্ষোভ, ভয় ও আঘাত জমে থাকে। আবার যদি কেবল আদর দিয়ে বড় করা হয়, কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে সে লালন-আদুরে হয়ে পড়ে এবং দায়িত্ববোধ তৈরি হয় না।

অতএব, সুস্থ লালন-পালনের মূলনীতি হলো— ভালোবাসায় কাছে টেনে নেওয়া, আর দৃঢ়তার মাধ্যমে সঠিক পথে পরিচালনা করা।

তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে— ভালোবাসা আগে, কঠোরতা ও দৃঢ়তা পরে। এ কারণেই হযরত লুকমান (আ.) প্রথমে স্নেহভরা “হে আমার স্নেহের সন্তান” সম্বোধন করে পরে বলেন, “আকিমিস সালাহ”— ‘নামাজ আদায় করো’।

সুতরাং একজন অভিভাবকের দায়িত্ব হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী কোমলতা ও দৃঢ়তা— উভয়ের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কারণ যথাস্থানে কোমলতা ও যথাস্থানে কঠোরতা ও দৃঢ়তা—এই দুই গুণের সঠিক ব্যবহারই শিশুকে ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী ও সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

সূত্র: শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করতে করণীয়, পৃষ্ঠা ৬৪।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha